Homeবাংলাদেশসংসদে উত্থাপিত বক্তব্যে নিরপেক্ষ তদন্ত চায় নাবিল গ্রুপ

সংসদে উত্থাপিত বক্তব্যে নিরপেক্ষ তদন্ত চায় নাবিল গ্রুপ

Published on

Latest articles

এপ্রিলে রপ্তানি আয় ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার

দীর্ঘ ৮ মাস পতনের পর এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ।রপ্তানি উন্নয়ন...

ভালোবাসা দিবসে কানাডায় একক কনসার্টে কুমার বিশ্বজিৎ

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিতের একমাত্র...

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-সংক্রান্ত আলোচনায় নাবিল গ্রুপ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্থাপিত বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সংসদে উপস্থাপিত কিছু তথ্য তাদের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, ব্যাংকিং নথি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার রেকর্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ বিষয়ে নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কৃষিবিদ মো. আমিনুল ইসলাম গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দেন। আবেদনপত্রের অনুলিপি অর্থমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছেও পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নাবিল গ্রুপ সম্পর্কে উত্থাপিত তথ্য জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছেও আবেদন করা হয়েছে।

আবেদনপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে ৭০০ কোটি টাকার এলসি সুবিধা গ্রহণ এবং তা পরিশোধ না করার বিষয়ে সংসদে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা ব্যাংকিং নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নাবিল গ্রুপের তথ্যমতে, ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং অন্যান্য ট্রেডিং পণ্য আমদানির জন্য মোট ৭ হাজার ১৮১ কোটি টাকা সমমূল্যের এলসি খুলেছে। এসব এলসির বিপরীতে ৫ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকার সাইট ও অ্যাকসেপ্টেড বিল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিশোধ করা হচ্ছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানায়।

নাবিল গ্রুপের মোট ব্যাংক দায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বলে যে তথ্য সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে দাবি করা হয়েছে আবেদনপত্রে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত তাদের মোট ব্যাংক দায়ের পরিমাণ ৫ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের আগস্টে এ পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ২ হাজার কোটির বেশি কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, তারা কখনও কোনো ব্যাংক ঋণের খেলাপি হয়নি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংসদে নাবিল গ্রুপের অর্থ কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী তহবিলে ব্যবহৃত হয়েছে, এ ধরনের ইঙ্গিতেরও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই। এছাড়া নাবিল গ্রুপ বা এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঋণ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার কিংবা প্রতারণা-সংক্রান্ত কোনো প্রমাণিত অভিযোগ নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পরিবারের সদস্যরা দেশে অবস্থান করছেন এবং দেশের বাইরে তাদের কোনো অবৈধ বা গোপন সম্পদ নেই বলে আবেদনপত্রে দাবি করা হয়।

নাবিল গ্রুপ জানায়, তারা গত দুই দশক ধরে কৃষি, শিল্প, খাদ্যপণ্য, পরিবহন, আমদানি-রপ্তানি এবং ভোগ্যপণ্য খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, টানা দুই বছর দেশের শীর্ষ পাঁচ ভোগ্যপণ্য আমদানিকারকের মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তাদের মোট আমদানির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, বর্তমানে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি এবং দুই লাখের বেশি মানুষ পরোক্ষভাবে নাবিল গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের মোট বিনিয়োগের ৮০ শতাংশ উত্তরাঞ্চলে রয়েছে। আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও নাবিল গ্রুপের কর্মকর্তা, পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা দেশে অবস্থান করছেন বলে জানানো হয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তার স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মা রাজশাহীতে বসবাস করেন এবং সন্তানরা সেখানেই পড়াশোনা করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনপত্রে আরও বলা হয়, নাবিল গ্রুপ কখনও কোনো ব্যাংকে ঋণখেলাপি হয়নি। ব্যাংকিং কার্যক্রম পারস্পরিক চুক্তি ও প্রচলিত বিধি অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে দেড় হাজারের বেশি বিধবা ও দুস্থ নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

ক্রীড়া খাতে অবদানের প্রসঙ্গ তুলে নাবিল গ্রুপ জানায়, এ বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে তাদের মালিকানাধীন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এবং বাংলাদেশ উইমেন্স প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে রাজশাহী স্টারস এফসি শিরোপা জিতেছে। এছাড়া রাজশাহী স্টারস এফসি এশিয়ান উইমেন্স ফুটবল ক্লাব প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে।

আবেদনপত্রে নাবিল গ্রুপ বলেছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের ক্ষেত্রে তথ্য, নথি ও প্রমাণকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। যথাযথ যাচাই ছাড়া সংসদীয় বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা অন্য কোনো স্বাধীন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টির তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগী হিসেবে দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার তাদের রয়েছে।

More like this

এপ্রিলে রপ্তানি আয় ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার

দীর্ঘ ৮ মাস পতনের পর এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ।রপ্তানি উন্নয়ন...

ভালোবাসা দিবসে কানাডায় একক কনসার্টে কুমার বিশ্বজিৎ

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিতের একমাত্র...

‘বরফ যুগে’ ঢুকছে সৌদি আরব, কাতার?

সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোয় দেখা গেল—বিস্তীর্ণ উঁচুনিচু এলাকাজুড়ে সাদা আস্তরণ। আসলে ওগুলো বরফ। কোথাও...