ট্রেডমিল দেখতে সহজ মনে হলেও এটি একটি চলমান যন্ত্র। সামান্য অসাবধানতায় পা পিছলে যেতে পারে, হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে, এমনকি মেশিনও নষ্ট হতে পারে। দুর্ঘটনার অধিকাংশই ঘটে এমন কিছু ভুলে, যা একটু সচেতন থাকলেই এড়ানো যায়। নিচে সবচেয়ে প্রচলিত দশটি ভুল এবং তা থেকে বাঁচার উপায় দেওয়া হলো।
১. সেফটি কি না আটকিয়ে চালানো
সেফটি কি হলো ট্রেডমিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর ক্লিপটি আপনার পোশাকের সঙ্গে লাগানো থাকলে হোঁচট খেলে বা পড়ে গেলে মেশিন সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়। সমাধান: প্রতিবার চালানোর আগে ক্লিপ আটকানোর অভ্যাস করুন।
২. চলন্ত বেল্টে লাফিয়ে ওঠা
অনেকে তাড়াহুড়ো করে চলন্ত বেল্টে উঠে পড়েন, যা পা পিছলানোর বড় কারণ। সমাধান: আগে দুই পাশের ফুটবোর্ডে দাঁড়ান, কম গতিতে মেশিন চালু করুন, তারপর ধীরে বেল্টে পা রাখুন।
৩. প্রথম দিনেই বেশি গতি ও সময়
উৎসাহে প্রথম দিনেই ৪০ মিনিট দৌড়াতে গেলে শরীরে ব্যথা হয় এবং দু-তিন দিন পর ব্যায়াম বাদ পড়ে যায়। সমাধান: ছোট সময় ও কম গতিতে শুরু করুন, প্রতি সপ্তাহে অল্প অল্প বাড়ান।
৪. ওয়ার্ম-আপ ও কুলডাউন না করা
সরাসরি দ্রুত গতিতে শুরু বা হঠাৎ থেমে যাওয়া পেশিতে টান ধরার কারণ হতে পারে। সমাধান: শুরুতে ও শেষে ৫ মিনিট করে ধীরে হাঁটুন।
৫. হ্যান্ডেল শক্ত করে ধরে হাঁটা বা দৌড়ানো
এতে ভঙ্গি নষ্ট হয়, কোমর ও কাঁধে চাপ পড়ে এবং ক্যালরি খরচও কমে। সমাধান: শুধু ভারসাম্যের জন্য হালকাভাবে ধরুন, সম্ভব হলে হাত স্বাভাবিকভাবে দোলান।
৬. পায়ের দিকে বা পাশে তাকিয়ে চলা
নিচে বা পাশে তাকালে ভারসাম্য হারানো সহজ হয়। সমাধান: সামনের দিকে তাকিয়ে মাথা ও কাঁধ সোজা রাখুন।
৭. ভুল জুতা বা খালি পায়ে ব্যবহার
খালি পা, স্যান্ডেল বা পিছল সোলের জুতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায় এবং জোড়ায় চাপ ফেলে। সমাধান: ভালো কুশনযুক্ত, ফিতে বাঁধা স্পোর্টস জুতা পরুন। ঢিলা পোশাক বা ঝুলে থাকা ফিতাও এড়ান।
৮. মেশিনের চারপাশে জায়গা না রাখা
ট্রেডমিলের পেছনে দেয়াল বা আসবাব একেবারে লাগিয়ে রাখলে পড়ে গেলে আঘাত বেশি লাগে। সমাধান: পেছনে ও পাশে নিরাপদ খালি জায়গা রাখুন এবং শিশু ও পোষা প্রাণীকে মেশিন চলার সময় দূরে রাখুন।
৯. মেশিনের নিয়মিত যত্ন না নেওয়া
বেল্টে ধুলা জমা, তেলের অভাব বা ঢিলে স্ক্রু মেশিনের মোটরের ওপর চাপ ফেলে এবং আয়ু কমায়। সমাধান: ব্যবহারের পর শুকনো কাপড়ে মুছুন, বেল্টের নিচের ধুলা মাঝে মাঝে পরিষ্কার করুন এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী লুব্রিকেন্ট দিন। ঠিকমতো পরিষ্কার ও যত্ন নিলে মেশিন অনেকদিন ভালো থাকে।
১০. শরীর খারাপ লাগলেও চালিয়ে যাওয়া
মাথা ঘোরা, বুকে অস্বস্তি, তীব্র ব্যথা বা শ্বাসকষ্টকে উপেক্ষা করে ব্যায়াম চালিয়ে গেলে বিপদ ঘটতে পারে। সমাধান: এমন কিছু অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে গতি কমিয়ে মেশিন বন্ধ করুন, বিশ্রাম নিন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
নিরাপদ ব্যবহারের ঝটপট চেকলিস্ট
প্রতিবার শুরুর আগে এই কয়েকটি বিষয় দেখে নিন:
- সেফটি কি আটকানো আছে কি না।
- বেল্টে কিছু আটকে বা পড়ে আছে কি না।
- জুতার ফিতা বাঁধা আছে কি না।
- পানির বোতল হাতের কাছে আছে কি না।
- মেশিন সমতল মেঝেতে স্থির আছে কি না।
- আশেপাশে শিশু বা অন্য কেউ ঝুঁকিতে আছে কি না।
নতুন মেশিন কেনার সময় নিরাপত্তা ফিচার দেখুন
যাঁরা নতুন ট্রেডমিল কেনার কথা ভাবছেন, তাঁরা সেফটি কি, মজবুত হ্যান্ডেল, ভালো কুশনিং ও ওজন সীমার মতো নিরাপত্তা ফিচারগুলো বিশেষভাবে দেখুন। বিভিন্ন মডেলের বিবরণ ও ট্রেডমিলের দাম বাংলাদেশে তুলনা করে নিজের পরিবারের জন্য নিরাপদ ও টেকসই মেশিন বেছে নিন।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: ট্রেডমিলে পড়ে গেলে কীভাবে সাবধান হব? উত্তর: সেফটি কি আটকানো থাকলে মেশিন থেমে যায়। পড়ে গেলে আঘাত পেলে সাহায্য নিন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রশ্ন: শিশুরা কি ট্রেডমিলের কাছাকাছি থাকতে পারে? উত্তর: না, মেশিন চলার সময় শিশুদের দূরে রাখুন। ব্যবহার না করলে পাওয়ার বন্ধ করে সেফটি কি খুলে রাখা নিরাপদ।
প্রশ্ন: ট্রেডমিল থেকে কেমন শব্দ হলে সতর্ক হব? উত্তর: ঘষা, ঠকঠক বা অস্বাভাবিক গর্জন শব্দ হলে মেশিন বন্ধ করে বেল্ট, রোলার ও স্ক্রু পরীক্ষা করুন। সমস্যা না মিটলে টেকনিশিয়ানের পরামর্শ নিন।
প্রশ্ন: প্রতিবার ব্যবহারের পর কী করা উচিত? উত্তর: মেশিনের পাওয়ার বন্ধ করুন, ঘাম মুছুন এবং সেফটি কি খুলে রাখুন।
শেষ কথা
ট্রেডমিল ফিটনেসের একটি চমৎকার সঙ্গী, যদি তা সচেতনভাবে ব্যবহার করা হয়। এই দশটি ভুল এড়িয়ে চললে আপনি ইনজুরি থেকে নিরাপদ থাকবেন এবং আপনার মেশিনও বহুদিন ভালো সেবা দেবে।
স্বাস্থ্য সংক্রান্ত দ্রষ্টব্য: এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। শারীরিক সমস্যা থাকলে ব্যায়ামের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
