Homeমতামতপারিবারিক বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি হলে কমবে শিশুশ্রম

পারিবারিক বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি হলে কমবে শিশুশ্রম

Published on

Latest articles

রংধনু সাদাও হয়!

আমরা মাঝে মাঝে আকাশে রংধনু দেখি। তবে আমরা যে রংধনু দেখি তা রঙিন। কিন্তু...

স্বাভাবিকতা ফিরছে পর্যটনে, হোটেল-রিসোর্ট ৬০ শতাংশ পূর্ণ

ডিসেম্বরে দেশের প্রধান পর্যটন এলাকাগুলোর হোটেল ও রিসোর্টের ৬০ থেকে ৮০ ভাগ কক্ষই পর্যটকে...

সুস্থ ও অধিকারপ্রাপ্ত শিশুরা একটি জাতির সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে। কিন্তু প্রায়ই আমাদের দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শ্রমের সঙ্গে পিষ্ট হতে দেখা যায়। শিশুশ্রমের সঙ্গে দারিদ্র্যের একটি নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। আইএলও ও ইউনিসেফের মতে, দারিদ্র্যের হার এক শতাংশ বাড়লে শিশুশ্রম অন্তত শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।  

শিশুশ্রম বলতে সাধারণত এমন কাজকে বোঝায়, যা শিশুদের শৈশব, সম্ভাবনা ও আত্মসম্মান কেড়ে নেয় এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। বিপজ্জনক শিশুশ্রম বলতে এমন সব কাজকে বোঝায়, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তাদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে বা নৈতিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

শ্রম শিশুদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। একটি শিশুর শিক্ষা লাভের সুযোগকে বাধাগ্রস্ত করে। ভবিষ্যতে ভালো ও উপযুক্ত পারিশ্রমিকের চাকরির সুযোগ নষ্ট করে দেয়।

২০২২ সালের চতুর্থ জাতীয় শিশুশ্রম জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশে মোট শিশুর সংখ্যা ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬৪ হাজার। এর মধ্যে কর্মরত শিশু ৩৫ লাখ ৩৭ হাজার, শিশুশ্রমিক ১৭ লাখ ৭৬ হাজার ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমিক ১০ লাখ ৬৮ হাজার।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ২০১৩ সালের তুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম কমলেও শিশুশ্রমের সার্বিক সংখ্যা এখনো উদ্বেগজনক। তবে এই জরিপে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম হ্রাসের যে প্রবণতা দেখা গেছে, তাতে আশা করা যায়, ভবিষ্যতে শিশুশ্রম আরও কমবে।

আমাদের দেশের অধিকাংশ দরিদ্র পরিবার একমাত্র উপার্জনকারীর আয়ের ওপর নির্ভরশীল। কোথাও কোথাও নারীরা আয়মূলক কাজে যুক্ত থাকলেও প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে তাদের উপার্জন স্থিতিশীল বা পর্যাপ্ত হয় না। ফলে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা সংকট দেখা দিলে পরিবারটি দ্রুত আর্থিক চাপে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার তাগিদে পরিবারের শিশুরাই কাজ করতে বাধ্য হয় এবং অল্প বয়সেই তাদের ওপর জীবিকার ভার এসে পড়ে।

এ ধরনের পরিবারে নারী সদস্যদের আয়মূলক কাজে দক্ষ করে যুক্ত করা গেলে পরিবারে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি হয়। এতে আর্থিক চাপ কিছুটা কমে এবং শিশুর ওপর উপার্জনের দায় চাপানোর প্রয়োজনও হ্রাস পায়। ফলে শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়া শিশুদের আবার কার্যকরভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা সহজ হয়। তাই শুধু প্রচার বা সচেতনতামূলক উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ না থেকে, শিশুশ্রমের প্রতিটি ঘটনার পেছনের কারণ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে বাস্তবসম্মত ও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আশার কথা, শিশুশ্রম নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। সেটিকে যুগোপযোগী করার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের বিস্তৃত সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে যথাযথভাবে শিশুশ্রম নিরসনে কাজে লাগাতে পাড়লে এ অভিশাপ থেকে মুক্তি লাভ সম্ভব। একই সঙ্গে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা, কাঠামো ও আইনগত কাঠামোর শক্তিশালীকরণের জন্য অ্যাডভোকেসি করা দরকার।

প্রয়োজনে শিশুশ্রম নিরসনে সহায়তা করার জন্য নিয়মিত কর্মসূচির পাশাপাশি বিশেষ তহবিলযুক্ত প্রকল্প শুরু করা যেতে পারে।

কৃষিবিদ মুশফেকুর রহমান: ম্যানেজার (লাইভলিহুড), ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ

More like this

রংধনু সাদাও হয়!

আমরা মাঝে মাঝে আকাশে রংধনু দেখি। তবে আমরা যে রংধনু দেখি তা রঙিন। কিন্তু...

স্বাভাবিকতা ফিরছে পর্যটনে, হোটেল-রিসোর্ট ৬০ শতাংশ পূর্ণ

ডিসেম্বরে দেশের প্রধান পর্যটন এলাকাগুলোর হোটেল ও রিসোর্টের ৬০ থেকে ৮০ ভাগ কক্ষই পর্যটকে...

আলোকের এই ঝর্‌না-ধারায়: রবীন্দ্র নস্টালজিয়ার এক সন্ধ্যা

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল নস্টালজিয়ার কবি নন, তিনি বাংলার জীবন্ত স্পন্দন। তার কবিতা, গান...