Homeবাণিজ্যইরান যুদ্ধে বাড়তে পারে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যয়

ইরান যুদ্ধে বাড়তে পারে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যয়

Published on

Latest articles

ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসব: সেরা সিনেমা ‘ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ ও ‘কুরাক’

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২৪তম আসর শেষ হয়েছে। এবার বাংলাদেশ প্যানারোমা সেকশনে (পূর্ণদৈর্ঘ্য) সেরা...

সুদানে সেনা হাসপাতালে ড্রোন হামলা, নিহত ৭

সুদানের দক্ষিণ কোরদোফান অঞ্চলের অবরুদ্ধ শহর ডিলিং-এ একটি সেনা হাসপাতালে ড্রোন হামলায় ৭ বেসামরিক...

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাড়বে বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি ব্যয়। প্রচলিত রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক বেশি পথ ঘুরে আসছে জাহাজ ও কার্গো বিমান। ফলে ইতোমধ্যে সাগর ও আকাশ পথে পণ্য পরিবহন খরচ শুরু করেছে।

ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে তুলাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে দেশের মিল ও কারখানাগুলোর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি কবির আহমেদ জানিয়েছেন, শনিবার যুদ্ধ শুরুর পরে কাতার, কুয়েত, ওমান ও এয়ার এরাবিয়াসহ অন্তত ছয়টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কার্গো পরিবহন স্থগিত করেছে।

ঢাকা থেকে যেসব এয়ারলাইন এখনো চলাচল করছে, তারাও কার্গো বহন সীমিত করছে। ফলে তৈরি পোশাকসহ ১ হাজার ২০০ টনের বেশি পণ্য বিমানবন্দরে আটকে আছে, বলেন তিনি।

তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে চীন, মালয়েশিয়া ও হংকং রুট ব্যবহার করতে হতে পারে। এতে ব্যয় বাড়বে।

সাধারণত চট্টগ্রাম থেকে ছোট জাহাজে কলম্বো, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাংকে পণ্য নেয় বাংলাদেশ। এরপর পণ্যগুলো বড় জাহাজে (মাদার ভেসেল) তোলা হয়। অধিকাংশ জাহাজ সুয়েজ খাল হয়ে বা কেপ অব গুড হোপ ঘুরে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে যায়।

দুই বছর আগে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর হুতি হামলার কারণে শিপিং কোম্পানিগুলো সুয়েজ খাল ব্যবহার কমিয়ে দেয়। কেপ অব গুড হোপ হয়ে যাওয়া জাহাজগুলোকে প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে জ্বালানি খরচ বেশি হয়, ফলে ভাড়া বেড়ে যায়।

‘এবারও শিপিং কোম্পানিগুলো ভাড়া বাড়াতে শুরু করেছে। খরচ ভাগাভাগির মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতারা এই বাড়তি খরচ স্থানীয় সরবরাহকারীদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে,’ বলেন কবির।

তিনি আরও বলেন, রপ্তানি ও আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নেই, তবে পরিবহন ব্যয় বাড়বে।

আরও বেশি উদ্বেগের বিষয় জ্বালানি সরবরাহ। বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। সেই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করলে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, গতকাল হরমুজ প্রণালির কাছে প্রায় ১৫০টি জাহাজ আটকে ছিল। উপসাগরীয় রুটে যুদ্ধঝুঁকি বিমা বাতিল হওয়ায় অন্তত চারটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশের আমদানি করা তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ এই রুট দিয়ে আসে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের করণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে বেড়ে দ্বিগুণ অংকে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সরকার জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিকল্প রুট ও সুয়েজ খালের অব্যাহত ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রবাহ কোনোভাবে চালু রাখা সম্ভব হতে পারে।

‘তবে শিপিং লাইনের ভাড়া বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বাড়বে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়লেও উৎপাদন ব্যয় বাড়বে,’ বলেন তিনি।

বিমার কিস্তি ইতোমধ্যে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, বিকল্প পথে পণ্য পরিবহন করতে হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের খরচ আরও বাড়বে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, যুদ্ধ চলাকালে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হলে ব্যবসার ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তবে চীন ও ভারতের মতো এশীয় বাজার থেকে বিকল্প উৎস ব্যবহার করলে ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব।

ইতোমধ্যে পরিবহন ব্যয় ও ভোজ্য তেলের বৈশ্বিক দাম প্রভাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের উপমহাব্যবস্থাপক তাসলিম শাহরিয়ার।

‘মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে পাম তেল আমদানির ক্ষেত্রে পরিবহন ভাড়া প্রতি টনে ৮ থেকে ১০ ডলার বেড়েছে। সয়াবিন তেলের দাম প্রতি টনে ৩০ থেকে ৪০ ডলার, আর পাম তেলের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ ডলার,’ জানান তিনি।

সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সমস্যা তৈরি হতে পারে, তবে এক সপ্তাহ বা ১০ দিন বন্ধ থাকলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ মনসুর বলেন, গ্রীষ্ম মৌসুমের আগে আঞ্চলিক অস্থিরতা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

কারণ এ সময় মধ্যপ্রাচ্যে চার গুণ পর্যন্ত বেশি বাংলাদেশি সবজি রপ্তানি হয়।

আকিজ ইনসাফ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক অনুপ কুমার সাহা বলেন, দেশে বর্তমানে অন্তত দুই মাসের চাহিদা মেটানোর মতো গমের মজুত রয়েছে। এতে সাময়িক সময়ের জন্য কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাবে।

More like this

ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসব: সেরা সিনেমা ‘ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ ও ‘কুরাক’

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২৪তম আসর শেষ হয়েছে। এবার বাংলাদেশ প্যানারোমা সেকশনে (পূর্ণদৈর্ঘ্য) সেরা...

সুদানে সেনা হাসপাতালে ড্রোন হামলা, নিহত ৭

সুদানের দক্ষিণ কোরদোফান অঞ্চলের অবরুদ্ধ শহর ডিলিং-এ একটি সেনা হাসপাতালে ড্রোন হামলায় ৭ বেসামরিক...

আমাদের মাথায় শুধু ফুটবল: ঢাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট ভারত

রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্যে ঢাকায় পা রাখতেই ভারতীয় ফুটবলাররা পেয়েছেন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা। আর সেটিই...