Homeখেলা‘আরেকটু সাহস দেখালে এবারই বাংলাদেশ নকআউটে উঠত’

‘আরেকটু সাহস দেখালে এবারই বাংলাদেশ নকআউটে উঠত’

Published on

Latest articles

বাংলাদেশে বৃহৎ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে ইইউ: রাষ্ট্রদূত মিলার

বাংলাদেশে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি বৃহৎ প্রতিনিধি...

সংসদে নারী নেতৃত্ব কোনো ‘ট্রফি’ নয়

একটি শব্দও কখনো কখনো রাজনৈতিক মানসিকতাকে উন্মোচন করে দেয়। সম্প্রতি এক টেলিভিশন টক-শোতে নারীদের...

আশা জাগিয়েও তিনটি ম্যাচ অল্প ব্যবধানে হেরে এবং একটি জয় নিয়ে ২০২৫ আইসিসি নারী বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শেষ করেছে বাংলাদেশ। তবে দলটির পারফরম্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বিশ্বমঞ্চে তারা কতটা এগিয়ে গেছে। চলতি আসরে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক শারমিন আক্তার সুপ্তা একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের আবদুল্লাহ আল মেহেদীকে। তিনি কথা বলেছেন হাতছাড়া হওয়া সুযোগ, দলের অগ্রগতি ও বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে। সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ নিচে তুলে ধরা হলো—

দ্য ডেইলি স্টার (স্টার): পুরো অভিজ্ঞতাটা যদি একটু দূর থেকে দেখেন, তাহলে সবচেয়ে বড় শিক্ষাটা কী পেলেন?

শারমিন আক্তার সুপ্তা (সুপ্তা): এটা ছিল আমাদের দ্বিতীয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ। অভিজ্ঞতার দিক থেকে দেখলে— দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দল অনেক বছর ধরে বিশ্বকাপে খেলছে, কিন্তু শেষ দুই-তিন বছরে তাদের পারফরম্যান্স আরও উন্নত হয়েছে।

আমার মনে হয়, এখন আমাদের সময় এসেছে নকআউট পর্বে খেলার। প্রথমবার আমরা যখন খেলতে গিয়েছিলাম, তখন একদম নতুন ছিলাম, কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। আমাদের ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে প্রতিটি খেলোয়াড় তখন খুবই উচ্ছ্বসিত ছিল। কিন্তু এবার আমি মনে করেছি, আমরা অনেক দিক থেকেই সামর্থ্যবান। আরেকটু ভালো পরিকল্পনা করলে, আরেকটু সাহস দেখালে বা আরও কিছু ম্যাচের অভিজ্ঞতা থাকলে হয়তো আমরা এবারই নকআউট খেলতাম।

স্টার: অল্প ব্যবধানে তিনটি ম্যাচ হারা নিশ্চয়ই কষ্ট দিয়েছে। জয়ী দলগুলোর সঙ্গে নিজেদের মূল পার্থক্যটা কোথায় দেখছেন?

সুপ্তা: আমি মনে করি, সেই ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষরা জিতেছে অভিজ্ঞতার জোরে। দক্ষতা, প্রচেষ্টা বা পরিশ্রমের দিক থেকে আমরা পিছিয়ে ছিলাম না। কিন্তু ওই রকম চাপের পরিস্থিতিতে আমরা বেশি ম্যাচ খেলিনি। বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারিনি।

এই আফসোসটা থেকেই গেছে যে, আমরা তিনটা ম্যাচ অল্প ব্যবধানে হেরেছি এবং ওই দলগুলোর একটিই এখন ফাইনালে (দক্ষিণ আফ্রিকা) খেলছে। তবে আমি মেয়েদের একটা জিনিস খুবই ভালো লেগেছে— কোনো ম্যাচে আগে থেকে হারার শঙ্কা দেখলেও তারা একই ধৈর্য, পরিশ্রম ও মনোবল নিয়ে খেলেছে। এটা দারুণ পেশাদারিত্বের পরিচয়।

স্টার: শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে কথা বলা যাক। আপনি ফিফটি করে দারুণ খেলছিলেন। কিন্তু পরে ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছাড়তে হয়।

সুপ্তা: ক্র্যাম্পটা আসলে আমি মাঠে নামার অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। তারপরও আমি নিজেকে উজ্জীবিত রাখার চেষ্টা করে খেলছিলাম।

আমি কখনোই ভাবিনি, আমরা ওই ম্যাচ হারব। আজও আফসোস হয়— যদি ওই ক্র্যাম্পটা এক ঘণ্টা পর হতো বা আমি একটু আগে আউট হতাম, তাহলে হয়তো মনটা একটু শান্ত থাকত। খুবই খারাপ একটা দিন ছিল। আমার মনে হয়, ওই ম্যাচের পর মেয়েরা ঠিকমতো ঘুমোতেও পারেনি। এটা আমাদের সবচেয়ে কষ্টের স্মৃতি হয়ে থাকবে।

শেষ পাঁচ ওভারে আমরা খারাপ ক্রিকেট খেলেছি। ওই অবস্থায় আমাদের ম্যাচটা অন্তত দুই ওভার হাতে রেখেই জেতা উচিত ছিল। তবে এখান থেকে শেখার অনেক কিছু আছে, যা আমরা পরেরবার কোনো হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচ জিততে কাজে লাগাতে পারব।

স্টার: তরুণ খেলোয়াড় মারুফা আক্তার, স্বর্ণা আক্তার ও রাবেয়া খানের পারফরম্যান্স কেমন লাগল?

সুপ্তা: স্বর্ণা, মারুফা আর রাবেয়া— তিনজনই বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের সম্পদ। তারা খুব মেধাবী খেলোয়াড়। আমি বিশ্বাস করি, তারা এমন খেলোয়াড়, যারা ভবিষ্যতে বিশ্বকাপে আধিপত্য দেখাতে পারবে। আমার আস্থা আছে এই মেয়েরাই একদিন বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারে। আমাদের বোর্ড সভাপতির (আমিনুল ইসলাম বুলবুল) মতো আমিও বিশ্বাস করি, এই দল খুব দ্রুতই বড় সাফল্য পাবে।

স্টার: সঠিক প্রস্তুতি ছাড়াই খেলতে নামলেন। বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলার অভাবটা কি অনুভব করেছেন?

সুপ্তা: আমরা বয়সভিত্তিক দলের ছেলেদের সঙ্গে বা নিজেদের মধ্যে অনুশীলন ম্যাচ খেলেছি, কিন্তু আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা একেবারে আলাদা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেকরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। আগেই যদি সেসব পরিস্থিতিতে খেলতে পারতাম, তাহলে পরে মানিয়ে নেওয়াটা সহজ হতো। ওই ঘাটতিটা আমাদের ছিল, অস্বীকার করার কিছু নেই।

স্টার: আপনি এবারের বিশ্বকাপে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট?

সুপ্তা: আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট না। যদিও আমার ইচ্ছে ছিল, আমি যেন দলের হয়ে সর্বাধিক রান করি, যেমনটা গত তিন-চার সিরিজে করেছি। আমি চেয়েছিলাম দলের জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে। মনে হয়, আমি নিজের প্রত্যাশা মতো খেলতে পারিনি। বিশেষ করে, আমার স্ট্রাইক রেট প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। আমার লক্ষ্য ছিল ৭৫ থেকে ৮০ স্ট্রাইক রেটের মধ্যে খেলা, যেটা আমি গত বছর করতে পেরেছিলাম।

স্টার: দলের ব্যাটিং নিয়ে বলুন। কোথায় উন্নতির সুযোগ বেশি দেখছেন?

সুপ্তা: প্রতিটি দেশের নিজস্ব শক্তি ও কৌশল আছে। আমরা দেশের উইকেটে যেভাবে খেলে বড় হয়েছি, সেটার অবস্থার কথা মাথায় রেখে নিজেদের শক্তির জায়গা থেকে খেলতে চেষ্টা করি। আপনারা দেখবেন যে, অন্য দলগুলো শক্তি, সামর্থ্য ও ফিটনেসে আমাদের থেকে এগিয়ে। তারা পাওয়ার প্লেতে রান বাড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।

আমাদের এখনও তেমন পাওয়ার হিটার তৈরি হয়নি, তাই আমরা নিজেদের শক্তির জায়গায় থাকতেই চেষ্টা করি। তবে হ্যাঁ, আমাদের টপ অর্ডারের উন্নতির অনেক জায়গা ও সুযোগ আছে।

স্টার: বলা হয়ে থাকে, অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি রান না করলে বাংলাদেশ দলের পুঁজি ভালো হয় না। এবার যেহেতু জ্যোতি বেশিরভাগ ম্যাচে তেমন রান করতে পারেননি, আপনার বিশ্লেষণ কী?

সুপ্তা: আমি মনে করি, দলটার এখন শুধু জ্যোতি বা আমার ওপর নির্ভর করা উচিত না। সোবহানা মোস্তারির কথাই ধরুন— সে আগের বিশ্বকাপে তেমন খেলার সুযোগ পায়নি, কিন্তু এবার খুব ভালো খেলেছে। আমি মনে করি, ও তাদের মধ্যে একজন, যারা খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে।

আমাদের দল এখন আর এক-দুই জনের ওপর নির্ভরশীল নয়। এখন সবার অবদান রাখার পরিমাণ বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা প্রায়ই ২০০ বা এর ওপরে রান তুলছি— এটাই প্রমাণ করে যে, সবাই অবদান রাখছে।

স্টার: এই টুর্নামেন্টের পর বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার আশাবাদ কী?

সুপ্তা: আমি মনে করি, আমাদের নারী ক্রিকেটাররা খুব পরিশ্রমী। বাংলাদেশের মেয়েরা জন্মগতভাবে পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল হওয়ার পাশাপাশি ফুটবল, ক্রিকেট, হ্যান্ডবল— সব জায়গাতেই নারী ক্রীড়াবিদরা অনেক এগোচ্ছে। এখন বিসিবি যেভাবে উদ্যোগ নিচ্ছে, যদি এটা আরও বাড়ে, আমি বিশ্বাস করি, খুব শিগগিরই বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের উন্নতি চোখে পড়ার মতো হবে।

More like this

বাংলাদেশে বৃহৎ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে ইইউ: রাষ্ট্রদূত মিলার

বাংলাদেশে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি বৃহৎ প্রতিনিধি...

সংসদে নারী নেতৃত্ব কোনো ‘ট্রফি’ নয়

একটি শব্দও কখনো কখনো রাজনৈতিক মানসিকতাকে উন্মোচন করে দেয়। সম্প্রতি এক টেলিভিশন টক-শোতে নারীদের...

কেন একই ধরনের কনটেন্ট বারবার সামনে আসে

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফোন হাতে নিলেই চোখে পড়ে পরিচিত দৃশ্য—ফেসবুকের নিউজফিড, ইউটিউবের রিকমেন্ডেশন,...