Homeবিনোদনওয়ার্নার ব্রাদার্স কিনছে নেটফ্লিক্স, স্ট্রিমিং দুনিয়ায় আসছে পালাবদল

ওয়ার্নার ব্রাদার্স কিনছে নেটফ্লিক্স, স্ট্রিমিং দুনিয়ায় আসছে পালাবদল

Published on

Latest articles

ঠিক হলো বিপিএলের দলগুলোর নাম

পাঁচটি ফ্র‍্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করার দুদিনের মধ্যে আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দলগুলোর নাম ঘোষণা...

সুন্দরবন ভ্রমণে আগ্রহ বাড়ছে পর্যটকদের

ঢাকার ব্যবসায়ী আবীর আবদুল্লাহ সময় পেলেই দেশে-বিদেশে ঘোরেন। কিন্তু যাতায়াতের ঝক্কি-ঝামেলার কারণে সুন্দরবনে যাওয়ার...

ভিডিও স্ট্রিমিং দুনিয়ায় বড় ধরনের পালাবদল আসছে। কারণ নেটফ্লিক্স ৭২ বিলিয়ন ডলার (৫৪ বিলিয়ন পাউন্ড) দিয়ে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির সিনেমা ও স্ট্রিমিং ব্যবসা কিনতে রাজি হয়েছে। যা নিয়ে বিশ্বব্যাপী রীতিমতো হইচই শুরু হয়েছে।

দরপত্র প্রতিযোগিতায় কমক্যাস্ট ও প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্সকে পেছনে ফেলে নেটফ্লিক্স বড় এই চুক্তি জিতে নেয় বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়।

ওয়ার্নার ব্রাদার্সের মালিকানায় আছে হ্যারি পটার, গেম অব থ্রোনসসহ বহু জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ও স্ট্রিমিং পরিষেবা এইচবিও ম্যাক্স।

এই অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে বিনোদন দুনিয়ায় শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান তৈরি হবে। কিন্তু হলিউডে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা নিয়ে ইতোমধ্যে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেছে। 

বিশেষ করে রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা এই চুক্তির সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এটি হলিউড কর্মীদের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। আবার ভোক্তাদের খরচও বাড়াবে।

দুটি বড় স্টুডিও একীভূত হলে তারা খরচ কমানোর দিকে নজর দিতে পারে। এতে আগের চেয়ে সিনেমার সংখ্যা কমবে। টিভি সিরিজের সংখ্যাও কমে আসবে।

অনেক বিশ্লেষক বলছেন, বড় এই চুক্তির ফলে হলিউডে কনটেন্ট নির্মাণের পরিমাণ কমে যেতে পারে। কারণ নেটফ্লিক্স ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স মিলে অনেক বিভাগ একীভূত হবে।

কর্মীদের চাকরি হারানোর ভয়

সাধারণত কনটেন্ট কমলে কাজও কমে আসবে। এতে হলিউডের অনেক কর্মী কাজ হারাতে পারেন। রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা বলেছে, এই একীভূতকরণে কর্মী ছাঁটাই, বেতন কমানো ও কাজের সুযোগ কমতে পারে।

ফলে লেখক, পরিচালক থেকে শুরু করে টেকনিক্যাল ক্রুরা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

সংকটে পড়তে পারে সিনেমা হল

সাধারণত নেটফ্লিক্স হলে খুব বেশি সিনেমা মুক্তি দেয় না। যদিও তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সিনেমা হলেই মুক্তি পাবে। কিন্তু বিশ্লেষকদের শঙ্কা, এই একীভূতকরণে ফলে হলে সিনেমার সংখ্যা কমতে পারে। পলে ছোট হলগুলো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সিনেমা ইউনাইটেড বলেছে, এটি সিনেমা হলের জন্য বড় ধরনের হুমকি।

স্ট্রিমিং দুনিয়ায় পালাবদল

এই চুক্তির পর নেটফ্লিক্স হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কনটেন্ট মালিকদের একটি। এতে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতিযোগিতায় বিশাল পরিবর্তন আসবে। অন্যদের যেমন ডিজনি, অ্যামাজন, প্যারামাউন্ট সবাইকে নতুন কৌশল নিতে হবে। এইবিও ম্যাক্স হয়তো নেটফ্লিক্সের সঙ্গে মিশে যাবে কিংবা নতুনভাবে সাজানো হবে। এতে স্ট্রিমিংয়ের দুনিয়ায় পালাবদল দেখা যাবে।

খরচ বাড়বে দর্শকদের

বড় চুক্তির কারণে দর্শকের জন্য খরচ আরও বাড়বে। কারণ নেটফ্লিক্সের নিয়ন্ত্রণে কনটেন্টের সংখ্যা বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে নেটফ্লিক্স সাবক্রিপশন খরচ বাড়াতে পারে। যার প্রভাব গিয়ে পড়বে সরাসরি দর্শকের ওপর। এতে দর্শকের হাতে বিকল্প কমে যাবে।

নেটফ্লিক্সের সহ-প্রধান নির্বাহী টেড সারানডোস বলেছেন, তারা চুক্তিটি এগিয়ে নিতে পুরোদমে কাজ করছে। ওয়ার্নার ব্রাদার্স বিগ শতাব্দীর বিনোদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। আমরা এখন একসঙ্গে পরবর্তী শতাব্দীর গল্প বলব।

নেটফ্লিক্সের সহ-সিইও গ্রেগ পিটার্স জানান, এইচবিও ব্র্যান্ডটি দর্শকের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখানে কেমন পরিবর্তন আসবে সে বিষয়ে এখনই মন্তব্য করার সময় নয়।

নেটফ্লিক্স আশা করছে, এই একীভূতকরণের মাধ্যমে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার খরচ বাঁচানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও সহায়ক সেবা অংশে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর মাধ্যমে।

তারা বলছে, ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সিনেমাগুলো আগের মতোই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। তাদের টেলিভিশন স্টুডিও চাইলে অন্য প্ল্যাটফর্মের জন্যও কনটেন্ট তৈরি করতে পারবে। আর নেটফ্লিক্স তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্মের জন্য নিজের কনটেন্ট তৈরি অব্যাহত রাখবে।

ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সিইও ডেভিড জ্যাসলাভ বলেন, দুটি বড় প্রতিষ্ঠান একত্রিত হচ্ছে। এতে পুরো বিশ্বের দর্শকরা আমাদের সেরা কাজ উপভোগ করতে পারবে।

এই চুক্তিতে নগদ অর্থ ও শেয়ার মিলিয়ে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ দশমিক ৭৫ ডলার। ঋণসহ মোট কোম্পানির দাম দাঁড়ায় প্রায় ৮২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে নগদ ৭২ বিলিয়ন ডলার।

দুই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ সর্বসম্মতভাবে চুক্তিটির অনুমোদন দিয়েছে।

ওয়ার্নার ব্রাদার্স আগামী বছর তাদের স্ট্রিমিং ও স্টুডিও ব্যবসাকে গ্লোবাল নেটওয়ার্ক বিভাগ থেকে আলাদা করবে। এরপরই নেটফ্লিক্স অধিগ্রহণ সম্পন্ন করবে।

গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অংশ ‘ডিসকভারি গ্লোবাল’ নামে চালু হবে। যারা সিএনএন, টিএনটি স্পোর্টস ও ইউরোপের বিভিন্ন চ্যানেল পরিচালনা করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি নেটফ্লিক্সের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হলেও একইসঙ্গে বিশাল সম্ভাবনা। সফল হলে এটি স্ট্রিমিং দুনিয়ার শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।

More like this

ঠিক হলো বিপিএলের দলগুলোর নাম

পাঁচটি ফ্র‍্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করার দুদিনের মধ্যে আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দলগুলোর নাম ঘোষণা...

সুন্দরবন ভ্রমণে আগ্রহ বাড়ছে পর্যটকদের

ঢাকার ব্যবসায়ী আবীর আবদুল্লাহ সময় পেলেই দেশে-বিদেশে ঘোরেন। কিন্তু যাতায়াতের ঝক্কি-ঝামেলার কারণে সুন্দরবনে যাওয়ার...

মোবাইল সাংবাদিকতা নাকি ডিজিটাল হয়রানি?

সাংবাদিকতার কাজ ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা; অন্যায়, বৈষম্য, জবাবদিহিহীনতা সামনে আনা। মোবাইল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সেই...